বাংলাদেশকে ম্যানুফ্যাকচারিং হাব হিসেবে গড়ে তুলতে চীনা বিনিয়োগকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) কার্যালয়ে গতকাল দিনব্যাপী চীন-বাংলাদেশ বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ আহ্বান জানান তিনি।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত, নীতিমালা সহজীকরণ ও ব্যবসার জন্য অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংস্কার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এর লক্ষ্য বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণ, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত ও তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা।’
বাংলাদেশকে ম্যানুফ্যাকচারিং হাব হিসেবে গড়ে তুলতে চীনা বিনিয়োগকারীদের আহ্বান জানিয়ে ড. ইউনূস বলেন, ‘বাংলাদেশে টেক্সটাইল ও পোশাক শিল্প থেকে শুরু করে ওষুধ, কৃষি প্রক্রিয়াকরণ, পাট, মৎস্য এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগের বিরাট সম্ভাবনা রয়েছে। তাই এখানে বিনিয়োগ করে ম্যানুফ্যাকচারিং হাব তৈরি করুন।’
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অনেক দেশের অর্থনীতির পরিবর্তনে চীনের ভূমিকা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘চীনা বিনিয়োগকারীরা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অনেক দেশের অর্থনীতি পাল্টে দিয়েছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও এটি রূপান্তরের সূচনা করবে বলে আশা করছি।’
দেশের তরুণ জনশক্তিকে বিনিয়োগে কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকের বয়স ২৬ বছরের নিচে। এ কর্মক্ষম জনশক্তি বাংলাদেশকে বিনিয়োগের আদর্শ গন্তব্য করে তুলছে।’
সম্মেলনে চীনের ১৪৩টি প্রতিষ্ঠানের প্রায় ২৫০ জন বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ছিলেন। বাংলাদেশেরও অনেক ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারী ছিলেন। সব মিলিয়ে প্রায় ৫০০-এর মতো অতিথি অংশ নিয়েছেন। সম্মেলনে চীনা প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন দেশটির বাণিজ্যমন্ত্রী ওয়াং ওয়েনতাও।
সম্মেলন শেষে বিডা কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এ সময় সংস্থাটির নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন জানান, বাগেরহাটের মোংলায় চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য দ্বিতীয় বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরির মৌখিক প্রস্তাব পেয়েছে বাংলাদেশ। তবে চীন সরকারের কাছে লিখিত প্রস্তাব চাওয়া হয়েছে। তাদের কাছ থেকে লিখিত প্রস্তাব পেলে এ বিষয়ে উদ্যোগ নেয়া হবে।
তিনি আরো বলেন, ‘চীনের জন্য প্রথম বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্মাণের কাজ চলছে। এ নিয়ে দেশটির সরকারের সঙ্গে আলোচনাও হয়েছে। আমাদের সাম্প্রতিক চীন সফরের পর দেশটির ৩০টি কোম্পানি তাদের দূতাবাসকে জানিয়েছে তারা চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলে জমি নিতে ও ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি চালু করতে চায়।’
বিনিয়োগ সম্মেলন প্রসঙ্গে চৌধুরী আশিক মাহমুদ বলেন, ‘আমরা অন্য কোনো দেশকে ফোকাস করে আলাদাভাবে এত বড় কনফারেন্স করছি না, কারণ আমরা মনে করি আগামী ৫-১০ বছরের মধ্যে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বিদেশী বিনিয়োগকারী দেশ হবে চীন।’
বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আরো জানান, চাঁদপুরের বাহেরচরে কৃষিভিত্তিক একটি প্রকল্প চালুর বিষয়ে পাওয়ার চায়না ইন্টারন্যাশনাল গ্রুপ লিমিটেডের সঙ্গে সম্প্রতি একটি দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে বেজা।
এক প্রশ্নের জবাবে চৌধুরী আশিক মাহমুদ বলেন, ‘আগে কখনো একসঙ্গে এত বিনিয়োগকারী বা ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দেশে আসেননি। তাদের মধ্যে ইতিবাচক আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে। তবে এটা ভাবার কোনো কারণ নেই, তারা এসেছেন মানেই বড় বিনিয়োগ চলে আসবে। বিনিয়োগের বিষয়টি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। আমরা তাদেরকে মোটিভেট করতে কাজ করছি। আশা করছি আগামী ৬-২৪ মাসের মধ্যে কিছু প্রকৃত বিনিয়োগ দেখতে পাব।’